রবিবারের রম্যগল্প: ঘটক পশু ভাই || SundayFun

in BDCommunity7 months ago

কুদ্দুস মিয়া বিবাহ করবে। বিবাহ করার জন্য লাগে পাত্রী। একজন পরামর্শ দিলো, ম্যারেজ মিডিয়ার দারস্থ হতে। ঠিকানাও দিলো।

যাব কি যাব না.. এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ঘুরপাক খেতে খেতে কুদ্দুস মিয়া একদিন বিকেলে চলে আসলো..

ঢুকতে গিয়ে সাইনবোর্ড চোখে পড়লো। ভিমড়ি খেলো কুদ্দুস মিয়া। এইটা কেমন নাম! ঘটক পশু ভাই! থ্রি ইন্ ওয়ান। এখানে কি মানুষের বিবাহ দেওয়া হয়, না পশুর? 🙄

ঢুকবে কি ঢুকবে না- এই দ্বন্দ্বে যখন কুদ্দুস মিয়া অস্থির; ভেতর থেকে গলা বের করে ঘটকের সহকারী বলে উঠল, আসুন স্যার। ভেতরে আসুন।

এরকম সুন্দর করে 'স্যার' সম্বোধন শুনে কুদ্দুস মিয়ার বুকের ছাতি ফুলে গেল। সে গলা খাকাড়ি দিয়ে একটু মুড নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।


বাংলা সিনেমায় যেরকম সচরাচর দেখা যায়- মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি, গালে পান আর বগলে ছাতা.. ঘটকের চিরাচরিত রূপ। সেরকম কাউকে ভেতরে প্রত্যাশা করেছিল।

কিন্তু কুদ্দুস মিয়া ভেতরে প্রবেশ করে চমকে গেল। 😳 এসি রুমে স্যুট টাই পড়ে বসে আছেন ঘটক সাহেব। ঐতিহ্য কালচার সব হারায়ে যাচ্ছে। কুদ্দুস মিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

images 17.jpeg

ঘটক সরু চোখে জিজ্ঞাসা করল, আপনি পাত্র?
কুদ্দুস মিয়া বলল, জ্বি। একটা প্রশ্ন করবার পারি?

-অবশ্যই বলুন।
-আপনার নাম পশু, নাকি আপনি পশুদেরও বিয়া সদি করান?

-কেন? ঘটক পাখি ভাই আছে, ঘটক পশু ভাই নাম হতে সমস্যা কোথায়?
-'পাখি ভাই' নামের মধ্যি একটা রোমান্টিক ব্যাপার স্যাপার আছে।

-এটা ভুল ধারণা। পাখি যখন তখন উড়াল মারে। আর পাবলিক খায় ধরা। আমি ঘটক পশু ভাই। উড়াল মারার ব্যাপার স্যপার নাই। ডিভোর্স পর্যন্ত পাশে আছি।
-কি কন! ডিভোর্স পর্যন্ত?
😲

-হ্যাঁ। সাইনবোর্ড দেখেন নাই? ঘটক পশু ভাই! থ্রি ইন্ ওয়ান।
-তা দেখছি। কিন্তু বুঝি নাই।

-আমি তিন ধরনের সার্ভিস দেই। আপনি বিয়া করবেন, পাত্রী খুঁজে দিবো। অনুষ্ঠান করবেন, ইভেন্ট ম্যানেজ করব। এরপর সংসার জীবন, শুরু হবে যুদ্ধ।
-যুদ্ধ!

-আরে ভাই, জীবনটাই তো যুদ্ধ। যুদ্ধ যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে- ডিভোর্স, মামলা মোকদ্দমা, আদালত.. তখন উকিল সার্ভিসও আমি দিব।
-ভাই আমি যাই গা।
😟

images 16.jpeg

-বিয়ে করবেন না?
-আপনে বিয়ার যে ফিরিস্তি শুনাইছেন, আমার সাধ মিট্যা গেছে।

-আপনি দেখছি ভীতু মানুষ। হবে, আপনাকে দিয়েই হবে। আদর্শ স্বামী হাওয়ার সব গুণ আপনার আছে। আপনার সংসার টিকবে। তবে..
-তবে কী?

-মাঝে মাঝে হাসপাতালে যাওয়া লাগতে পারে। কোন চিন্তা করবেন না। মেডিক্যাল সার্ভিসও আমরা দেই।
-হাসপাতালে কেন?
😰

-ওগুলো পড়ে হবে। আগে বলেন, কেমন পাত্রী চান?
-সবাই যেরকম মেয়ে চায়, আমিও তেমন চাই। তবে মেয়ের একটা জিনিশ অবশ্যই বড় হইতে হবে।

-ছি! এসব কি বলছেন! 🧐
-জী, মনটা বড় হইতে হবে। নইলে হবে না।

-তাই বলেন! এরকম একটা মেয়েই তো আমার হাতে আছে। এখন দেখতে যাবেন?
-এ..এ..এখনই?

-হ্যা। শুভ কাজে দেরি করতে নেই।
-কোথায় যেতে হবে?

-মহিলা কলেজের গেইটে।
-ওখানে কেন?

-আরে মশাই। ওটা মেয়ে দেখার জন্য পারফেক্ট জায়গা। ক্লাস থেকে মেয়ে বের হবে। মেকাপ থাকবে না মুখে। আসল রূপ দেখতে পাবেন।
-আইচ্ছা, চলেন।


কুদ্দুস মিয়া আর ঘটক পশু ভাই দাঁড়িয়ে আছে মহিলা কলেজের গেইটে। একটু পরপর দুএকটা মেয়ে বেরিয়ে আসে। কুদ্দুস মিয়া আঙ্গুল তুলে চেচিয়ে উঠে, ঐযে একটা মাইয়া আসতেছে।
-কতবার বলবো, এভাবে আঙুল তুলে দেখাবেন না। 😡 লোকে কি মনে করবে! পাত্রী যখন আসে, আমিই বলব।

এরপরেও কুদ্দুস মিয়ার তর সইছে না। আরও কিছু মেয়ে ক্লাস শেষে বেরিয়ে আসছে। দেখে কুদ্দুস মিয়া আবার আঙুল তুলে বলল, আরও আসতেছে, আরও আসতেছে।

পেছন থেকে একজন কাঁধে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কি আসতেছে?
-মাইয়া আসতেছে।

-আপনি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি করতেছেন?
-মাইয়া দেখার জন্য ওয়েট করতেছি।

লোকটা খপ করে কুদ্দুস মিয়ার কলার চেপে ধরলো। কুদ্দুস মিয়া ঘার ঘুড়িয়ে পেছনে তাকিয়ে চমকে উঠলো। সে পুলিশের এসআই-এর সাথে কথা বলছিল! 🤫

আশেপাশে তাকিয়ে দেখল, ঘটক পশু ভাই নাই। বিপদের গন্ধ টের পেয়ে কেটে পড়েছে নাকি!

-এই। এটারে গাড়িতে তোল। কলেজ গেইটে দাড়িয়ে মেয়ে দেখার সাধ মিটিয়ে দিব আজকে। অনেকদিন ধরে কমপ্লেইন পাচ্ছি। বখাটেরা ইভটিজিং করছে। আজকে হাতে নাতে ধরেছি। এবার মজা দেখাবো।

images 18.jpeg

কুদ্দুস মিয়া কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, পশু ভাই.. 😥
-পশু পাখির নাম না নিয়ে এখন আল্লাহ খোদার নাম জপতে‌ থাকো বাছাধন।

কুদ্দুস মিয়া কিছু বলার আগে তাকে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তোলা হল।


কুদ্দুস মিয়া ভয়ার্ত চোখে চেয়ে চেয়ে দেখলো, গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে এসআই সাহেব এক ডজন ডিম কিনছেন। 😢😰


প্রতি রবিবার একটি করে রম্য গল্প লিখব এখন থেকে। এতে কুদ্দুস মিয়া চরিত্রটির বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিনোদনের পাশাপাশি স্যাটায়ার হিসেবে সমাজের অনিয়ম তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। সবগুলো লেখায় #sundayfun ট্যাগ ব্যবহার করব, যাতে পাঠকগণ চাইলেই রম্য গল্পগুলি সহজে খুঁজে পান। এই প্রকল্পের দ্বিতীয় গল্প আজ। নির্মল বিনোদনের জন্য আগের গল্পগুলোও চাইলে পড়তে পারেনঃ

কুদ্দুস মিয়ার ডায়াগনোসিস

20200627_034755.jpg


আত্মকথনঃ

poster_1593196763985_rd7uzi0du0.gif

আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।



"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"


        জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি
Sort:  

বেশ মজার ছিল গল্পটা

Thanks a lot.