কমন শত্রু

avatar
(Edited)

কিছুদিন আগে পিঁপড়া নিয়ে একটি গল্প খুব ভাইরাল হয়েছিল ফেসবুকে আপনাদের চোখে পরেছে কিনা জানি না। এই গল্পটা রিচার্ড এটেনবরোর নামে ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছিলো। তবে তিনি যে এটা বলেছেন এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। তবে আমার মনে হয় গল্পের মধ্যে যে শিক্ষাটা ছিল সেটা যথার্থ।

গল্পটা ছিল এ রকম-
একশোটি কালো পিঁপড়া আর একশোটি লাল পিঁপড়া কে যদি একটা কাচের জারে রাখা যায় তো দেখা যাবে তারা নিজ নিজ মনে খাচ্ছে দাচ্ছে খেলছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের একে অপরের কোন সমস্যা নাই। কোন ঝামেলা ছাড়াই দিব্বি আছে। কিন্তু কেউ যখন বাইরে থেকে জারটিকে জোরে জোরে ঝাকি দেয় তখন লাল পিঁপড়া আর কালো পিঁপড়া একে অপরের সাথে যুদ্ধে জোড়ায় পরে। সবাই সবাইকে মারতে থাকে। বাইরে থেকে যদি কেউ ঝাকি না দিত তাহলে কিন্তু তারা একে অপরকে শত্রু মনে করতো না।

আমরা কি এমন দৃশ্য আমাদের আসে পাশে কি কখনো লক্ষ্য করেছি? আমরা আমাদের সমাজের পার্থক্য গুলো নিয়ে যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পরি তখনও ঠিক এমনটাই ঘটে। আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ বিভিন্ন উপজাতি একসাথে বসবাস করি। আমাদের পাশাপাশি মসজিদ মন্দির রয়েছে। আমরা সাদা চামড়া কালো চামড়া এক সাথেই বসবাস করি আমাদের কোন সমস্যা নেই। আমরা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ একসাথে বসবাস করি। একে অন্যের সাথে ঝোগরা না করেই শান্তিতে বসবাস করি। তবে মাঝে মধ্যে কিছু একটা ঘটে তখন আমরা একে অপরের সাথে ঝোগরা করি। ধর্মে বর্ণে বিভিন্ন ভাষাভাষীর মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পরি। আর এই কিছু একটাই হচ্ছে জারে ঝাকুনী দেওয়ার মত। কেউ একজন বাইরে থেকে ঝাকি দিয়েছে। আমাদের একে অপরের সাথে যুদ্ধে না জড়িয়ে আগে দেখা উচিত এই ঝাকুনীটা দিচ্ছে কে। সেই তো আমাদের প্রকৃত শত্রু যে শত্রু আমাদের অগোচরে আমাদের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে দর্শক সারিতে গিয়ে হাত তালি দিচ্ছে। সেই হচ্ছে লাল পিঁপড়া আর কালো পিঁপড়ার কমন শত্রু।

আর এরাই সামান্য স্বার্থের জন্য ভিতরে ভিতরে সমাজকে খোকলা করে। একজনের সাথে আরেক জনের সম্পর্ক নষ্ট করে। কিন্তু আমরা এই বিষয় গুলো বুঝতে চেষ্টাও করি না।

আমাদের দেশে এর আগে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যেটাকে প্রচার করা হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবে। কিন্তু সেগুলোর কোনটাই সাম্প্রতিক দাঙ্গা ছিল না। বেশির ভাগেই ছিল রাজনৈতিক। কোথাও কোথাও ছিল ব্যাক্তিগত দন্দ্ধকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল করা। এই সবগুলো পিছনে কেউ না কেউ ঝাকি দেয়।

ভারত উপমহাদেশে যখন মুসলমান ও হিন্দুদের মাঝে বিভক্ত হয়েছিল তখনও কিন্ত বড় একটা ঝাকি কেউ দিয়েছিল জারের বাইরে থেকে। তার আগে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে তেমন কোন ঝামেলা ছিল না। এক সাথেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছিল।

যাই হোক নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়ানোর আগে দেখা উচিত বাইরে থেকে কে জারে ঝাকি দিচ্ছে।

images (13).jpeg

Source



0
0
0.000
0 comments