অফিসে যাই কাজ কাম নাই

কাউয়া কাচাল মানে বুঝেন? হুম, নাই কামের ঝোগাড়া ঝাটি চিল্লাচিল্লি। আজ ঘুমটা ভেংগেছে এই কাউয়া কাঁচালের শব্দ শুনে। খুবেই বিরক্তিকর এইসবের কারণে ঘুম ভাঙ্গাটা। বৃষ্টিতে মজায় মজায় ঘুমাচ্ছিলাম। বলেন তো সারারাত বৃষ্টি হবে। টিনের চালে বৃষ্টির ঝন ঝন শব্দ। হালকা শিতল পরিবেশ। ঘুমের জন্য উত্তম একটা ওয়েদার। কিন্তু যদি ঘুমটা ভেঙ্গে যায় এইসবে তাহলে কেমন লাগে।

যাক ঘুম ভাঙ্গতেই মা হাজির। কি রে নবাবজাদা, আর কতক্ষণ শুয়ে থাকবি। কতদিন ধরে বলতেছি রান্নাঘরের টিনটা চেঞ্জ করে দিতে দেইস না। গরুর মাংসের উপর যে টিনের ফুটা দিয়ে বৃষ্টির পানি পরতেছে খাবি কি করে। বির বির করে বলতেছিলাম ফুটার জন্য দুনিয়া পাগল আর বৃষ্টি ও তো ছিদ্রান্নেশনেই থাকে সব সময়।

যাক চরম বিরক্ত হয়ে বেড থেকে উঠে ছোট রুমে গেলাম। আসলে ছোট রুমে বসে যে ভাবনাটা ভাববেন সেটা কিন্তু সব সময় কাজের। তো আজকের ভাবনাটি ছিল অফিসে যেতে হবে। এই ভাবতে ভাবতে কাঁটায় কাঁটায় পাঁচ মিনিট লেগ গেলো। হঠাৎ আচমকা মনে হল দেরী হয়ে যাচ্ছে। তরিঘরি করে বার হয়ে গোসলটা সেরে নাস্তা খেয়ে অফিসের দিকে রওনা দিব। তবে নাস্তাটা আজ ভালোই হয়েছে। রুটি আর চিকন চিকন করে আলু কেটে একেবারে তেলে মচমচা করে ভাজলে খুবেই টেস্টি হয়। সাথে গরুর মাংসের ঝোল। রুটির সাথে মাংসের চেয়ে মাংসের ঝোলটাই বেশি বালো লাগে। অন্যদের কাছে কেমন লাগে জানি না। তবে আমার কাছে ভালোই লাগে।

নাস্তার পর্ব শেষ করে পোশাক আশাক পরে যুতসই একটা সাজ দিয়ে আয়নায় নিজের চেহারাটা একটু দেখলাম। মাসুম মাসুম চেহায়া চোখে ইমোশনাল একটা ভাব আছে 🤣 আয়নায় নিছের চেহারা দেখে চোখ এড়ানো যাচ্ছিল না। দেখতে দেখতে এদিক যে ঘড়ির কাটা অনেক দুর এগিয়ে গেছে সেদিকে খেয়াল নেই।

যাক তরিঘরি করে বাসা থেকে বার হলাম। রিক্সায় উঠে রওনা দিলাম। এখন একটা নতুন ঝামেলা মাস্ক। কিছুদূর গিয়ে আবার ফেরত আসলাম বাসায় মাস্ক নেওয়ার জন্য। হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আসার সময় রাস্তায় চারিদিকে তাকাই। উপভোগ করতে ভালোই লাগে। কে কি করে এইসব ভালো করেই লক্ষ করি। আসলে মানুষের জীবন জীবিকার জন্য বৃষ্টি বাদল কিছুই মানে না। এদিক দিন কে দিন করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। পনেরো দিন পর লক ডাউন শিথিল করাতে ঈদের কেনা কাটার জন্য বাজারে বেশ জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। মানুষের বাজারে না গেলেও উপায় নেই। আ র নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কর্মে না নামলেও না খায়ে থাকতে হবে।

যাই হোক অফিসে চলে আসি। আমার অফিসের ম্যানেজার ইকবাল ভাইয়ের সপরিবারে করোনা পজিটিভ। করোনা পজিটিভ হওয়ার আগে থেকেই উনি বিভিন্ন রোগে জর্জরিত। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকবার চিকিৎসা নিয়ে এসেছিল। সবাই ওনাকে নিয়ে চিন্তিত।

যাক অফিসে গিয়ে কোন কাজ নেই। শুধু বসে বসে থাকা ছাড়া। ধুত ত্যারী, লক ডাউন হলে বাসায় শুয়ে শুয়ে সময় কাটে। আর লক ডাউন শিথিল হলে অফিসে বসে বসে সময় কাঁটে। কি কপাল বলেন তো? এভাবে ভালো লাগে। আপনাদের কাছে কোন কাজ থাকলে দিয়েন তো, কোন কাজ না থাকলে অন্তত আজাইরা কোন কাজ থাকলেও দিয়েন। এভাবে বসে বসে বিরক্তিকর। কমরের মেদ গুলো ঝুলে যাচ্ছে পশ্চাতদেশের হাড় হাড্ডি গুলোও দুষ্টামি ধুর করে দিয়েছে।

20210629_120116.jpg

20210629_120140.jpg



0
0
0.000
0 comments