পৃথিবীকে কিছু দিতে হলে দূর্দশাকে আপন করে নিতে হবে

আমরা অনেকেই কোন দুর্দশায় বা বিপদে পরলে আক্ষেপ করি। আমাদের দ্বারা কিছু হবে না। অনেক সময় হাল একেবারেই ছেড়ে দেই। মনের দুঃখে কাতরাতে থাকি। নিজেকে তখন অকেজো মাল মনে করি। কিন্তু এটা করা উচিত নয়। কারন এটা আমাদের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা। আমাদের আক্ষেপ না করে ভাবা উচিত পৃথিবী আমাদের দ্বারা এমন কিছু করাতে চায় যা আমাদের বা মানবজাতির জন্যই উপকার হবে। কাজেই দূর্দশার জন্য দুঃখ না করে মেনে নেওয়াই শ্রেয়। তাছাড়া আর কোন উপায় ও তো নেই।

সত্যিকার জীবন শুরু হয় আমাদের আরামদায়ক জীবনের বাইরে থেকেই। আরামদায়ক জায়গায় থেকে কেউ কখনো পৃথিবীকে কিছু দিতে পারে নিই এটাই চিরসত্য। বিভিন্ন জাতি, বিভিন্ন ব্যাক্তির ইতিহাস ঘাটলেই এই একটা বিষয় স্পষ্ট।

যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হয়েছিল, গৌতম বুদ্ধকে রাজপ্রাসাদ ছাড়তে হয়েছিল পৃথিবীকে কিছু দেওয়ার জন্য। পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানব নবী করিম (সাঃ) কে নিজ জন্মস্থান ছাড়তে হয়েছিল। লেলিনকে যেতে হয়েছিল নির্বাসনে। সেদিক না গিয়ে আমাদের ভাষার দিকে লক্ষ করলেই বুঝা যায় যে ভাষায় কথা বলছি সে ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছিল তারা কোন আরামদায়ক জায়গা থেকে আন্দোলন করেন নিই। জীবন দিয়ে আমাদের মাতৃভাষা দিয়ে গেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিকে তাকালেও দেখতে পাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ করেছে জীবনের বিনিময়ে আমাদের জন্য সুন্দর একটা বাংলাদেশ দিয়ে গেছে। তখনও কিন্তু সবাই যুদ্ধ করে নিই। দশ ভাগের এক ভাগ যুদ্ধ করেছে। মাত্র দেড় লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। বাকিরা মন সমর্থন দিয়েছিল তবে এই মৌনসর্থনে তো আর দেশ স্বাধীন হয় নিই। বাকিরা সবাই আরামদায়ক জায়গা খুঁজে নিয়েছিল। তাদের জন্য কিন্ত দেশ স্বাধীন হয় নিই। স্বাধীন হয়েছে যারা কমফর্ট জোনের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করেছে। আজকে যদি সবাই ১৯৭১ সালে ভারতে পালিয়ে যেত তাহলে কি দেশ স্বাধীন হত?

কাজেই কঠিন সময়ে আশাহত না হয়ে বিকল্প কিছু বার করুন। নিশ্চয়ই বিপদ হতে বা কঠিন সময় হতে উদ্ধার হতে ভালো কিছু আবিষ্কার করবো। যার দ্বারা সবাই উপকৃত হবে।

টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।আমরা অনেকেই জানি এই বাতি আবিষ্কার করতে কতবার তাকে চেষ্টা করতে হয়েছিল। একশোত বার চেষ্টা করার পর তিনি বাতিটি আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন।

আমরা বিপদে পরলে আসা করি কেউ এসে আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুক। আমরা অপেক্ষায় থাকি এই বিপদ থেকে উদ্ধার হতে কোন একজনের। আমরা চাই না বিপদ হতে উদ্ধার হওয়ার জন্য আরো কিছু পথ বার করি।

তাই সত্যিকার জীবন শুরু হয় কমফোর্ট জোনের বাইরে থেকে। কমফোর্ট জোনের ভিতর থেকে কেউ কখনো পৃথিবীকে নতুন করে কিছু দিতে পারে নিই।

images (12).jpeg

Source



0
0
0.000
0 comments