অর্থই সকল অর্নথের মূল

in BDCommunity2 months ago

বাংলাদেশের মানুষেরা চাকরী করতে এতো আগ্রহী কেন? লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে তাদের কোন সমস্যা নেই কেন? বাংলাদেশে একজনের বিপরীতে চাকরী প্রত্যাশী ১ হাজারেরও বেশি জন। এই ১ হাজার জনের মধ্যে দশজন টাকা দিতে প্রস্তুত। সেটা অফিসের পিওন থেকে শুরু করে প্রতিটা স্থরেই একই কাহিনী। এখন তো দেখি দেশের মানুষের কাছে টাকায় টাকা।

এই তরল টাকা গুলো আমলারা হজম করে সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ায় নিয়ে গিয়ে হাগে। সেখানে গিয়ে বেগম পাড়া বানায় সুইস ব্যাংকে টাকার পাহাড় গড়ে। এই টাকার পাহাড় গুলো দিয়ে আসলে কি করবে সেটা আমার জানা নাই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরিডার কেন চাকুরীর জন্য এতো টাকা ঘুষ দিচ্ছে ? ব্যবস্যা করার জন্য দেয় না কেন? পনেরো বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে তো সুন্দর ব্যবস্যাও করতে পারতো। কিন্তু পরিবার তাদের টাকা দেয় না কেন? পরিবার জানে তাদের নির্বোধ মার্কা ছোঁয়াল পোয়ালের দ্বারা ব্যবস্যা সম্ভব না। তা যা পড়াশোনা করেছে তা দ্বারা মেধা খাটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এটা কল্পনাও করতে পারে না। তাদের যা পড়াশোনা জ্ঞান বুদ্ধি তা দিয়ে চুরি চামারী সুদ ঘুষ খাওয়া সম্ভব নিজের বুদ্ধি দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো! উঁ হু কাভি নেহি।

এমন কোন পেশা নেই যেখানে ঘুষ না দিয়ে চাকরী হয়। শিক্ষকতা থেকে শুরু করে সব ধরনের পেশাতেই। আচ্ছা বলুন তো যে শিক্ষক ঘুষ দিয়ে চাকরী নিচ্ছে সেই শিক্ষক ছাত্রদের কি নীতিনৈতিকতা শেখাবে?

যেই পনেরো বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে চাকরী নিবে সেই টাকা এক বছরের মধ্যে তুলতে পা পারলে নাকি ইজ্জতের বেপার। আমরা অর্থ টিকেই সবার আগে প্রাধান্য দেই। যার কারনে অন্য সব কিছুকে দেখেও না দেখার ভান করি। আমরা জানি ঘুষ দেওয়া নেওয়া দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি যোগ্য অপরাধ আবার আমাদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ীও সুস্পষ্ট হারাম। তার পরেও অর্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সমাজে প্রতিযোগিতায় টিকতে গিয়ে ভালো মন্দ নাজার আন্দাজ করে নেই।

বইয়ে ভাব-সম্প্রসারণ পড়েছিলাম - অর্থই সকল অর্নথের মূল। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা কেহই সেই বাক্যটি ধারণ করতে পারি নিই। বই পড়ে মুখস্থ করে পাশ করেছি হয়তো কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে এর প্রতিফোলন একদমেই ঘটাতে পারি নিই আমরা।

আমরা সেই অর্থের পিছনেই ছুটে বেরাই সে অর্থের জন্যই মারামারি কাটাকাটি হানাহানি করি। আমাদের জীবনের সব কিছু এখন সেই অর্থ দিয়েই আবর্তিত। আমরা অর্থের মোহ থেকে বেরিয়া আশা তো দূরে থাক আরো বেশি ভিতরে চলে যাচ্ছি।

মানুষের লোভ বলে যে প্রবল শত্রু আছে সেটিই অর্থের প্রতি আমাদের লোভাতুর করে তোলে। শত্রুর এই পথে পা বাড়িয়ে যে সুখ নামক মরীচিকার পিছনে দৌড়াচ্ছি তা মূলত আমাদের অনর্থের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।

শিক্ষা, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই আবার সেই সম্পদেই অশান্তি ও হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়

অর্থসম্পদ নিয়ে আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কখনো ধনসম্পদ চাইতে ক্লান্ত বোধ করে না।’ (৪১ নম্বর সূরা; আয়াত নম্বর : ৪৯)। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে একমাত্র আশ্রয় স্থল বানিয়ে নিয়েছি আমরা। তাই তো টাকা কামানোর দুরারোগ্য অসুখে আমাদের পেয়ে বসেছে।

images (7).jpeg

Source