"ছলনার দংশন" একটি ভীন্নধর্মী বাংলা রসিকতা।

in BDCommunity2 months ago (edited)

আমি আমার লেখার শুরুতে সকল নারী পাঠিকাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দয়া করে আপনারা আমাকে ডাউনভোট দিয়েন না। কারন ডাউনভোটে আমার ভীষন ভয়, আমাবস্যার রাতে শশ্মানঘাটে ভূত দেখলেও যতটুকু ভয় পাবো না, তার চেয়ে বেশি ভয় পাবো যদি কোন স্ত্রীলোক আমার এই পোস্টে ডাউনভোট প্রদান করে।

IMG_20200731_011756.jpg

জৈনিক দার্শনিক একটা কথা বলেছিলেন "কালা কেউটে দংশন করিলে আপনার বেঁচে যাবার অপার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু কোন নারীর ছলনায় যদি আপনি দংশিত হন, আপনার অপমৃত্যু অবধারিত এবং সেই মৃত্যু আপনার বড়ই কাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। তিনি মৃত্যুকে কাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বলে উপস্থাপন করেছেন কারন আপনি যদি কোন নারীর ছলনায় দংশিত হয়ে থাকেন, দংশনের তীব্র যাতনা যখন আপনার সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করে মায়নমারের পথে অগ্রসরমান, তখন ব্যাকুল হয়ে আপনি মৃত্যুকে আলীঙ্গন করতে চাইবেন, ঠিক সেই সময় ক্লীব লিঙ্গ "মৃত্যুকে" আপনার স্ত্রী লিঙ্গ মনে হইবে, কারন মৃত্যুদেবীও আপনার সাথে ”আয় সখি ছলনা করি" খেলা খেলবেন। ইশ!! কি নিদারুণ সেই দৃশ্য, কি অসহনীয় সেই যাতনা, কি বিদঘুটে সেই অনুভূতি, কি তিক্ত সেই শব্দগুলো। ছলনার গোলকধাঁধায় চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে দংশিত সেই পুরুষ নিজের অজান্তেই তাহার জীবনের চারিপাশে শনির বলয় স্পষ্টরূপে অঙ্কন করেন।

IMG_20200804_182613.jpg

যেখানে সেই পুরুষ স্বয়ং শনির বলয়ের স্বত্বাধিকারী, সেখানে লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ দুরে অবস্থিত শনি গ্রহের দশা তাহার জীবনের চলার পথকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারবে তা আমার জানা নাই, কিন্তু ছলনার গোলকধাঁধায় রচিত বলয়ের প্রবল দশা থেকে উত্তরনের উপায় সম্পর্কে তাহার জ্ঞান ভান্ডারে জ্ঞানের ভীষন সংকটাপূর্ন অবস্থা। নারীর ছলনার বিষাক্ত সেই দংশন, অন্তরাত্মাকে বিষাক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি, সায়ানাইডের চেয়ে বহুগুনে বিষাক্ত বিষ হৃদপিণ্ডের রক্ত ধমনীর সাহায্যে সমস্ত দেহে ছড়িয়ে দিতে সফলতা অর্জন করে। সেই বিষ ধমনীর সাহায্যে যখন মস্তিষ্কে বিচরন করে, বিষক্রিয়া মস্তিষ্কের সকল প্রকার স্বাভাবিকতাকে বিনিষ্ট করে ফেলে। নিক্রিয় মস্তিষ্ক হইতে জ্ঞান সূচক ক্রিয়া প্রত্যাশা করাটা নিছক বোঁকামির বহিঃপ্রকাশ বৈকি।

স্বার্থপরের মতো কিসব যে লেখছি, সারা গল্পে একবচন ব্যক্তিকে নিয়ে বক বক করলে গল্পটা কেমন জানি এককেন্দ্রিক তথা স্বার্থপর স্বার্থপর উপলব্ধি হয়। তাই এবারের চেষ্টা পরিবারকে নিয়ে। স্ত্রী রূপি স্বয়ং ছলনাদেবীর বহু বহু দুঃসম্পর্কের ভাগ্নির একমাত্র ননদীনির ছলনায় বেচারা পুরুষের ছাপান্নবর্তী পরিবার, ছটু নামের কিশোর বয়সী হোটেল বেয়ারার হাত থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া চায়ের কাপের মতো, ভাইদের সংখ্যার সমানুপাতিক হারে বিভক্ত হয়ে যায়। জন্ম নিল ঐতিহাসিক এবং বর্তমানে বহুলপ্রচলিত ক্ষুদ্রপরিবার নামের একটি, নারী শাসনে প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থার অংশ বিশেষ।

IMG_20200730_173631.jpg

এতো কেবলমাত্র ছাপান্নবর্তী পরিবারের উপর নারীর ছলনার, তাহার অসীম ক্ষমতার বড়ই কদাচিত প্রদর্শন। নারীর ছলনার সবচেয়ে বিধ্বংসী হাতিয়ার স্বয়ং নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য। কথায় আছে নারীর রুপে হাজারো কলা কার্যকরী রুপে লুকায়িত থাকে। হাজারো কলার সামষ্টিক রুপকে জৈনিক ব্যক্তি খুবই শক্তিশালী এবং কার্যকরী ছলনারুপে আখ্যায়িত করেছেন। নারীর এই ছলনাময়ীরুপ সমাজের অবকাঠামোকে পরিবর্তন করার মতো ক্ষমতা রাখেন। পর্দাহীন পোশাকের ব্যবহার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মুসলিম সমাজব্যবস্থাকে পশ্চিমাধারার সমাজব্যবস্থার সাদৃশ্যমান করে তুলতে পারে খুব সহজেই। আমাদের দেশের হাজার হাজার মুসলিম সমাজব্যবন্থার বর্তমান প্রতিচ্ছবি ইহার প্রকৃষ্ট উদাহরন।

IMG_20200725_153543.jpg

একটি ভিত্তিহীন মতবাদ ব্যক্ত করছি, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কাশ্মীরি আপেল যদিওবা তার স্বাদগুনে জগতবিখ্যাত, অত্র প্রদেশের নারীরা তার চেয়ে বেশি জগতবিখ্যাত তাদের অপরুপ সৌন্দর্যের জন্য। কথায় আছে সুন্দরী রমনীরা ছলনার রাজ্যে শাসন করেন। সমিক্ষানুয়ী কাশ্মীরের লক্ষ লক্ষ সুন্দরীরা ছলনার অর্ধপৃথিবীর অনেকটা অংশজুরেই বহাল তবিয়তে শাসন করে আসছেন। তারা তাদের ছলনায় সমগ্র ভারতবাসি এবং সমগ্র পাকিস্তানি পুরুষদেরকে বিমোহিত করে রেখেছেন। তাই ভারত-পাকিস্তান কোন দেশেই কাশ্মীরকে ছাড়তে রাজি হন না, বরংচ চিরকালের জন্য নিজেদের সার্বিক দখলে নেবার জন্য যুগের পর যুগ রাষ্ট্র যুদ্ধ করেই চলছেন। হায়রে ভারতবাসি, হায়রে পাকিস্তানিরা আর কতকাল তোরা কাশ্মীরি নারীর রুপের ছলনায় বিমোহিত হয়ে রক্তের হলি খেলায় মেতে থাকবি।

ছলনার দংশনে যখন দুইটি রাষ্ট্রকে বিষাক্ত করা সম্ভব, তখন একটি সামাজব্যবস্থা, একটি পরিবার ও একটি ব্যক্তিকে নিমিষেই অবচেতন করা অতিসম্ভব। সমাজের সকল নারী ছলনাময়ী নন। তাদের মাঝে একজন আমাদের জননী, কেউ চাচী, কেউবা মামি, কেউবা দিদিমা আর মুষ্টিমেয় আমাদের বোন। সৃষ্টিকর্তা খুবই চতুরতার সহিত আমাদেরকে একজনের ঝলনার দংশনে দংশিত হবার বিধান দিয়েছেন, আমরা কেউ কেউ শুধু একজনের দংশনে দংশিত হই, আবার কেউ কেউ ফাইনাল দংশিত হবার আগে কোয়ার্টার এবং সেমিফাইনাল দংশিত হবার অভিজ্ঞতা অর্জন করি।

বিঃদ্রঃ (শুধুমাত্র নারী পাঠকের জন্য) গল্পে নারী এবং স্ত্রীলোক শব্দ দুইটিকে কাল্পনিক শব্দরুপে ব্যবহার করা হয়েছে। বিচক্ষন পাঠিকারা বিষয়টা খুব অনায়াসে বোধগাম্য করতে পারবেন।

গল্পে উল্লেখ্য জৈনিক এবং বিখ্যাত দার্শনিক ব্যক্তিটি লেখক স্বয়ং নিজেই। সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে তাহার নামটি এখানে বাংলায় লেখা হলো না।

লেখাটি কাউকে ছোট করার মহতি উদেশ্যে আমি লেখি নাই, আপনাদের ক্ষনিকের বিনোদন আমার পরম প্রাপ্তি।

ধন্যবাদ ধৈর্ষ সহকারে সম্পুর্ন লেখাটি পড়ার জন্য।

Sort:  

#Posh Tweet:

সকাল সকাল কোন সাপে দংশন করলো ভাই?

আচ্ছা বাদ দেন। তেতুলের পিক কেন দিছেন এর কারনণটা কি ?

কোন সাপে করছে বলা যাবে না ভাই।

যাক বাইচা আছেন এটাই মেলা।

This post earned a total payout of 2.180$ and 1.090$ worth of author reward that was liquified using @likwid.
Learn more.